ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬ , ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে ব্রাক কর্মী হত্যাকান্ডঃ ‎দাফনে মিলেছে শরীরে আঘাতের চিহ্ন! বন্যার স্বামী তপু পলাতক, দফারফার গন্ধ


আপডেট সময় : ২০২৫-১১-১০ ২১:১৭:২৬
মণিরামপুরে ব্রাক কর্মী হত্যাকান্ডঃ ‎দাফনে মিলেছে শরীরে আঘাতের চিহ্ন! বন্যার স্বামী তপু পলাতক, দফারফার গন্ধ মণিরামপুরে ব্রাক কর্মী হত্যাকান্ডঃ ‎দাফনে মিলেছে শরীরে আঘাতের চিহ্ন!বন্যার স্বামী তপু পলাতক, দফারফার গন্ধ
 
‎আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরঃ- 
 
আত্মহত্যা নই,পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে মণিরামপুরে আলোচিত ব্রাক বাংলাদেশ এনজিও কর্মী বন্যা'কে। হত্যাকারী তারই স্বামী মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ময়নাবাড়ি এলাকার কীটনাশক ব্যাবসায়ী মাহাবুবুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান তপু। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার পরপরই ব্রাক বাংলাদেশ এনজিও কর্মী মোছাঃ বন্যা আক্তার (৩২) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পরদিনই মণিরামপুর থানা পুলিশ ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার তথ্য ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি বলে মৃত বন্যার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করার পর গত রবিবার মৃতের ভাই আঃ রাজ্জাক মুঠোফোনে জানিয়েছেন, তার বোনের দাফনের সময় কোমর হতে মাথা পর্যন্ত অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তপু আমার বোনকে মেরে ফেলেছে,কিন্তু মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ বাবলুর রহমান খান আমাদের আত্মহত্বার মিথ্যা তথ্য দিয়ে থানা থেকে লাশ দিয়ে পাঠিয়ে দেয়।


 
‎এদিকে অভিযুক্ত তপুর আত্নগোপন ও ভাড়া বাসার গেটে সিসি থাকলেও মালিক বিশ্বজিৎ দাস বলেন রেকর্ড হয়না! তার সাথে বন্যার ফ্লাটের সামনের প্রতিবেশীর এলোমেলো বক্তব্যে সন্দেহ হলে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের অনুসন্ধানী টিম রহস্যউন্মচনে তথ্য সংগ্রহে নামে।



‎তথ্য মোতাবেক, ব্রাক বাংলাদেশের মণিরামপুরে চাকুরীর সুবাদে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ থানার চরানধেমান গ্রামের আবুল কালাম মুন্সী ওরফে বিশে মুন্সীর মেয়ে ও প্রবাসী মোঃ মেহেদী পারভেজের স্ত্রী বন্যা আক্তারকে বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ময়নাবাড়ি এলাকার কীটনাশক ব্যবসায়ী বিত্তশালী মাহাবুবুর রহমানের ছেলে নারী লোভী মোঃ মেহেদী হাসান তপু।প্রবাসী স্বামীকে কোর্ট হতে তালাক দিতেও বাধ্য করে হত্যাকারী তপু।


 
‎বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও বন্যাকে ফুসলিয়ে বিয়ের ফাদে ফেলে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারন করে ব্লাকমেইলের জালে প্রাই তিন বছর (২ বছর ৮ মাস) আগে বিয়ে করে মুখোশধারী তপু।বর্তমানে তপু ও বন্যার ১বছর ৭ মাস বয়সী মেয়ে আছে যার নাম তুবা! এ সমস্থ স্বীকারোক্তি দিতে যেয়ে কেঁদে ফেলে মৃত বন্যার ছোট বোন বর্ষা। বর্ষা এ প্রতিবেদক'কে জানিয়েছে বোনের বাসায় আাশার সুবাধে নারী লোভী তপু তার দিকেও দিয়েছিলো লোলুপ দৃষ্টি! মৃত বন্যার মেয়ে তুবাকে কোলে বসিয়ে বর্ষা বলতে থাকে, সেদিন আপা দ্রুত আসাতে ক্ষতি না হলেও তপু বন্যাকে অনেক মারধর করেছিলো। 


পুনরায় ভাড়া বাসাতে তথ্য সংগ্রহে গেলে, গেট খুলতে নারাজ বাড়িওয়ালা সনাতনী বউদি। নাছোড়বান্দা এ অনুসন্ধানী টিম ভিতরে ঢুকে পাওয়া যায়নি বন্যার হত্যাকে আত্মহত্যার মিথ্যা গল্প বলা প্রতিবেশী ভাবীকে।জানতে চাইলে বৌদী একটু শংকিত হয়ে জানান, ভাবীর ২টা বাচ্চায় অসুস্থ্য খুব,তাই বাবার বাড়িতে গেছে! আগের দিনের বলা মোতাবেক বন্যার ঝুলন্ত মরদেহ নামানোর ৩/৪ জনের মধ্য সবুজ নামের ১ যুবককে পেলে সাংবাদিকদের ভাইভা নিতে শুরু করে যুবক।

 
‎খোজ নিতে তপুর বাবার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে গেলে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা হলে, তারও এ বিষয়ে খোলখুলি বলতে থাকে। স্থানীয়রা বলছে, ইতিপূর্বেও কয়েকবার বন্যাকে মারধর করাতে শালিশ হয়েছে। মণিরামপুর বাজারে ভাড়া থাকা অবস্থায়ও এ বাড়িতে কয়েকবার বন্যা এসে কান্নাকাটি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, তপুর বাবা মাহাবুব পুরাতন সম্পদ শালী হওয়ায় এলাকার লোকেরা ভয়ে কেউ কিছুই বলেনা।



‎ঘঠনার পর থেকে পলাতক তপুর বাবার সাথে কথা বলতে গেলে মাহাবুব বলেন, তাদের তালাক হয়েছে জুন মাসে।তারপরও মেয়ের সুবদে তপু বন্যার বাসায় যেতো। তপু কোথায় জানতে চাইলে তপুর বাবা রেগে উঠে সাংবাদিকদের অবান্তর কথাবার্তা বলে মারতে তেড়ে এসে বলেন, আপনাদের কাজ আপনারা করেন যা জানার পুলিশ জানে, সেখনে যান! মেয়েটির খোজ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন স্থানীয় আ'লাগ, জামায়াত ও বিএনপির কয়োকজনকে পাঠায়ছিলাম। যার অপরাধ তার কাছে যান,এখানে আর আসবেন না।

 
‎অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, মৃত বন্যার বাসায় ঐদিনই দিনের বেলা তপুর পরিবারের কয়েকজন লোক গেছিলো! তারা চলে গেলে তপু ও বন্যার মধ্য ঝগড়া হয়, একফাকে পাশের বাসার ভাবী বাচ্চাটাকে নিয়ে চলে আসে। মারধরের এক পর্যায়ে বন্যার গলায় ওড়না পেচিয়ে দমবন্ধ হলে বন্যার মৃত্যু হলে তপু বের হওয়ার মহূর্তে পাশের বাসার ভাবীকে দিয়ে আত্মহত্যার ড্রামা সাজিয়ে চলে যায়।


গোপন তথ্য আছে, স্থানীয় কয়েকজন এ ঘনঠনাকে ধামাচাপা দিতে তপুর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে যেটার ভাগ মণিরামপুর থানা পুলিশও পেয়েছে। এদিকে মৃত বন্যার স্মার্ট ফোনের সমস্ত ডকুমেন্টরী ফ্লাশ পাওয়ারে বাজেয়াপ্ত হলেও পুলিশ বলছে,আগে হতেই তার ফেনে সব ডিলিট করে রেখেছিলো। ‎তার জন্যই হয়তো মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বাবলুর রহমান খান শনিবার সাংবাদিকদের সামনেই বলেছিলেন ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যা ছাড়া কোন আঘাতের চিন্হ পাওয়া যায়নি।


‎বন্যার বোন বর্ষার অভিযোগে আরো বলেন, ব্রাক বাংলাদেশ এনজিও হতে লোন তুলে ৮ লক্ষ, নগদ ৪ লক্ষ, ৩টি স্বরনের চেইন, স্বর্নের ১ জোড়া হাতের বালা ইতিপূর্বে ভক্ষন করেছে অভিযুক্ত স্বামী তপু।টাকা চেয়ে না পেয়ে তপু বন্যার ব্যাক্তিগত ব্যাংক একাউন্টের ডেভিড কার্ড ও পাসওয়ার্ড নিয়ে নেই স্বামী তপু। এখানেই শেষ ছিলোনা, নিজের বোনকে হারিয়ে হতবিহ্বল হয়ে বর্ষা বলতে থাকেন, আপা প্রায়ই ফোন করে টাকা চাইতো! তার স্বামী টাকার চাপ দিচ্ছে বলে আপা প্রতিদিন বলতো! গত কয়েক মাস যাবত বন্যার চাকুরীর প্রতিমাসের বেতনের টাকা পর্যন্ত ছিনিয়ে নিতো মেহেদী হাসান তপু। মুলত এসব নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তপুই বন্যাকে মেরে ফেলেছে।


‎অনুসন্ধানী তথ্য ও মৃতের ভাই-বোনের অভিযোগ,ভাড়া বাসার সিসি রেকর্ড, বন্যার ফোনের তথ্য লোপাট,শরীরের আঘাতের বিষয়ে কথা বললে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ বাবলুর রহমান খান বলেন, রিপোর্ট ত দেরী হবে।লাশ নিয়ে এসআই তারা মর্গ থেকে থানায় আসলে ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তার ফোনে জানালে আমরাও বলেছি এটা আত্মহত্যা।



 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ